ডেমরায় হবে সিটি হাই-টেকপার্ক, বিনিয়োগ সম্ভাবনা ৫ হাজার কোটি টাকা

১৯ আগষ্ট, ২০২১ ১৫:১২  
রাজধানী ঢাকার ডেমরায় প্রায় ১১৫ একর জমিতে গড়ে তোলা হবে সিটি হাই-টেক পার্ক। বিনিয়োগ হবে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। আর পার্কটি চালু হওয়ার পর এখানে ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে মনে করছে ডেভলাপার প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ। এজন্য পার্ক ডেভেলপার হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) সিটি গ্রুপকে আনুষ্ঠানিক ভাবে দায়িত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলমের উপস্থিতিতে আইসিটি টাওয়ারে এ নিয়ে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি হয়েছে। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. বিকর্ণ কুমার ঘোষ এবং সিটি হাই-টেক পার্ক লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. হাসান। এসময় হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) এন এম সফিকুল ইসলামসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত মে মাসে পার্ক স্থাপনের অনুমতি পাওয়ার পর মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, ফিজিবিলিটি স্টাডি ও পরিবেশগত সমীক্ষা পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যেই সিটি গ্রুপ কাজ শুরু করেছে। আজ এই চুক্তির মাধ্যমে হাই-টেক পার্ক ডেভেলপার হিসাবে সিটি গ্রুপ অফ-সাইট ও অন-সাইট সকল প্রকার সুযোগ সুবিধার উন্নয়ন, মাটি ভরাট, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহ, স্ট্যান্ডার্ড বিল্ডিং নির্মাণ, পার্কের অভ্যন্তরে প্রশস্ত রাস্তা, লেক, উন্নতমানের ফুড কোর্ট, এসটিপি স্থাপনসহ পার্ক ডেভেলপের সাথে সংশ্লিষ্ট সব কাজ করার সুযোগ পাবে। এছাড়া পার্কে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য সকল আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম সিটি গ্রুপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সিটি গ্রুপ দেশ-বিদেশে জনপ্রিয় একটি নাম। সিটি গ্রুপ এর মতো বড়ো প্রতিষ্ঠান হাই-টেক পার্ক স্থাপনে এগিয়ে আসায় দেশের অন্য কোম্পানিগুলোও উৎসাহিত হবে। সিটি গ্রুপ দ্রুততম সময়ে এই পার্ক ডেভেলপ করে কর্মচঞ্চল পরিবেশ সৃষ্টি করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. বিকর্ণ কুমার ঘোষ বলেন, দেশে এই মুহূর্তে ৫টি হাই-টেক পার্ক বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত এবং আরো তিনটি পার্ক উদ্বোধনের অপেক্ষায়। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে ৩৫৫ একর জমিতে বিভিন্ন কোম্পানি কাজ করছে। এখান থেকে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত হাই-টেক পার্কসমূহে ১৪০টির অধিক স্থানীয় স্টার্টআপ কোম্পানিকে বিনামূল্যে স্পেস/কো-ওয়ার্কিং স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ আইটি ইন্ডাস্ট্রির জনবলের চাহিদার দিক বিবেচনা করে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মধ্যমে আইসিটি খাতে দক্ষ জনবল তৈরি হয়েছে ২৮,৫০০ জন। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আইসিটি খাতে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রায় ২১,০০০ জনের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে । সিটি গ্রুপকে প্রাইভেট হাই-টেক পার্ক ঘোষণা দেয়ায় বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. হাসান বলেন, যেসব ইলেকট্রনিক্স এবং প্রযুক্তিপণ্য বাংলাদেশে তৈরি করার কথা কেউ চিন্তাও করতে পারেন নি, আমরা সেগুলো তৈরি করবো। মাইক্রো প্রসেসর, চীপ ডিজাইন, সার্কিট ডিজাইন, মোবাইল, ল্যাপটপ, টিভি, ফ্রিজ উৎপাদন/সংযোজন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল এন্ড টেকনোলজি কনসালটেনশন র্ফাম, নেটওয়ার্কি, ডাটা সেন্টার, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, প্রজেক্ট ম্যানেজেমেন্ট, মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য ট্রেনিং ইনস্টিটিউট স্থাপনসহ আইটি শিল্প ইউনিট স্থাপনে দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরকে উৎসাহিত করা হবে। এছাড়াও ডরমিটরী ও সাইন্স পার্ক স্থাপন করা হবে। সিটি হাই-টেক পার্কে আনুমানিক ৫,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে এবং ১৫,০০০ লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।